
মালয়েশিয়া ও চীন মিলে ছয়দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
এর আগে চীনের স্থানীয় সময় বিকাল সোয়া ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল সোয়া ৩টা) চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি তাসিং বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে।
চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে তারেক রহমান ও তার সফর সঙ্গীরা তাসিং বিমানবন্দরে পৌঁছান স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউ শিয়াওয়ং।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান গাড়ি থেকে নেমে লাল গালিচায় হেঁটে বিমানে ওঠেন। এ সময় চীনের সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়।
বেইজিং সফরের শেষ দিনে স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ১১টায় গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ মিনিটের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বসে। এর পরপরই দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি সরকার গঠনের পর তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান।
পরের দিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করে ঢাকা ও কুয়ালা লামপুর।
সোমবারই প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তালিয়ানে। সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বুধবার বিকালে তারেক রহমানের বেইজিংয়ে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তার ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।
তাদের উপস্থিতিতে বিনিয়োগ, গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ ১৩টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে সেখানে ভোজসভার আয়োজন করেন লি ছিয়াং।
সেদিন সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে আরেকটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। সবমিলিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হলে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী।


