
রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি হাসপাতাল ভবনের আটতলা থেকে পড়ে আসমা ঝিলিক নামে এক চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে তার স্বামী সাইফুল্লাহ তাকে ভবন থেকে ফেলে হত্যা করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে ওপর থেকে ফেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর নিহতের স্বামী সাইফুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। একই সঙ্গে এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের ভাই মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, ঝিলিক ও তার স্বামী চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল্লাহ স্ত্রীকে আটতলা থেকে নিচে ফেলে দেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই ঝিলিকের মৃত্যু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আবেগঘন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের বোন রেশমি আক্তার লোপা। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে আমার বোনকে ওর স্বামী হাসপাতালের আটতলা থেকে ফেলে হত্যা করেছে। অথচ এর কিছুক্ষণ আগেই ভিডিও কলে বোনের সঙ্গে আমার স্বাভাবিক কথাবার্তা ও গল্প হয়েছিল। আমি কিছু লিখতে পারছি না, কীভাবে বেঁচে থাকব জানি না। সবাই আমার বোনের জন্য দোয়া করবেন।’
অবশ্য ফেলে দেওয়ার অভিযোগটি এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে ওপর থেকে ফেলে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে মূল রহস্য উদঘাটিত হবে।’
অভিনয়জগতে আসমা ঝিলিক বেশকিছু পরিচিত কাজ করেছেন। ‘লুঙ্গি পরা মেয়ে’ ও ‘পোষা পাখি’সহ একাধিক জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাকে। এ ছাড়া জসিম উদ্দিন জাকিরের ‘কলিজাতে দাগ লেগেছে’, মেহেদী হাসানের ‘নদীর জলে শাপলা ভাসে’ এবং ‘আগুনে পোড়া কান্না’ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। এমনকি চিত্রনায়ক শাকিব খানের ‘রংবাজ’ সিনেমাতেও একটি চরিত্রে কাজ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি তার অভিনীত ‘গিভ অ্যান্ড টেক’, ‘বাংলার ভাবী’, ‘সমাধান’, ‘বদলা’, ‘চোখ যে মনের কথা বলে’ এবং ‘কী করে বলব প্রিয়তমা’ সিনেমাগুলো বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে।


