বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও আর্থিক অস্বচ্ছতা দূর করে একটি টেকসই ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সম্পাদিত বেশ কিছু মেগা প্রকল্প একতরফা ও বিতর্কিত শর্তযুক্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি, সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে আমদানি ও অফ-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে এত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাতটিকে পুনর্গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন, স্মার্ট গ্রিড উন্নয়ন এবং সিস্টেম লস কমিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং সঞ্চালন লাইন ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ২৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি নাগাদ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা দেশে তুলনামূলক সাশ্রয়ী, নিরবচ্ছিন্ন ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবো।


