
রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আধুনিক বাস সার্ভিস চালুর পাশাপাশি ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস নামানো হবে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে সাপ্তাহিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন ও সচেতনতামূলক গ্রাফিতি যুক্ত করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য শূন্য বর্জ্য নিশ্চিত করা।
সংসদ অধিবেশন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হয়। নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী দুটি প্রশ্নের জবাব দেন।
কর্মপরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো
:রাজধানীর সড়ক বিভাজক, উন্মুক্ত স্থান ও মিডিয়ানে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করা
:ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন
:মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ
:ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ
:অবৈধ দূষণকারী ইটভাটা বন্ধে অভিযান জোরদার
:খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
:নদী ও খাল দূষণ রোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা
:বিভিন্ন স্থানে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন
সরকার আশা করছে, এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।


