ভোলা পৌরসভার জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদা সুমিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ।
আজ (বুধবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ভোলা সদর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ একাডেমি রোডের নিজ বাড়ি থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠুর আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক নুরুননেসা সিদ্দিকী বলেন, দেশে তেল-গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান করতে হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সাইবার বুলিং বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।তিনি আরও বলেন, আগে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের সমালোচনা করা হলেও এখন একই ধরনের স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকসহ বিরোধী মতের লোকজনকে গ্রেপ্তার করা তারই প্রমাণ। নুরুননেসা সিদ্দিকী বলেন, সরকার একদিকে গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোট হলে সরকারগুলো সাধারণত গণরায় মেনে চলে, কিন্তু বাংলাদেশে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বারবার সংবিধানের আশ্রয় নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সংবিধানের চেতনা প্রতিফলিত হচ্ছে না। তাই মানবাধিকার সুরক্ষা, গণতন্ত্র শক্তিশালী করা এবং দেশের কল্যাণে সংবিধানে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই চাঁদাবাজি, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং বিশেষ করে নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র কাঠামো ও সাংবিধানিক ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সংগঠনটির আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবেকুন্নাহার মুন্নী বলেন, নারীদের ওপর সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। অথচ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জেরে বিবি সাওদা সুমিকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হয়েছে। নারীদের ওপর হয়রানি বন্ধ না হলে নারীরা রাজপথে নেমে আসবে এবং সে আন্দোলন থামানো যাবে না।


