
জামালপুরের সদর উপজেলায় ছেলেকে গরুচোর সন্দেহে না পেয়ে তার বাবা-মাকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপমান সইতে না পেরে জোসনা বানু নামে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাতে সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জোসনা বানু ওই এলাকার সুরুজ আলীর স্ত্রী। তার ছেলে সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে তাকে খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে জোসনা বানু ও তার স্বামীকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নায়েব আলী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে সুরুজ আলী, তোতা মিয়া ও সোহেল রানাকে আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নায়েব আলীর স্বজনের বাড়ির গোয়ালঘরে শব্দ শুনে চুরির সন্দেহ হয়। পরে সুজন মিয়াসহ কয়েকজনকে সন্দেহ করা হয়। এ সময় সুজনকে ধরতে গেলে তিনি পালিয়ে যান। পরে তার মা জোসনা বানু বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়।
পরে সুরুজ আলী ও তোতা মিয়াকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে সালিশের সিদ্ধান্তে তাদের নায়েব আলীর বাড়িতে আটকে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সোহেল রানাকে ডেকে নিয়ে এসে তিনজনকে একসঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে জোসনা বানুকেও ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরে স্থানীয়রা তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
এরপর আটক তিনজনকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার আলী বলেন, চুরির অভিযোগে ছেলেকে না পেয়ে তার বাবা-মাকে মারধর করা হয়। অপমান সইতে না পেরে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মারধরের শিকার জিরাতন বেগম অভিযোগ করেন, তার সন্তানকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য নায়েব আলী বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে মারধর করে। তিনি তা থামানোর চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
—এই ফরম্যাটেও করে দিতে পারি 👍


