
বরিশালে চুরি করা মানিব্যাগে থাকা এটিএম কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করতে গিয়ে চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- বরিশাল নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলা খোলা এলাকার টিটু হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার (৩১), মুন্সী গ্যারেজ এলাকার আবুল হোসেন গাজীর ছেলে মঈন গাজী (৩২) এবং বাংলাবাজার এলাকার সালাউদ্দিন চুন্নু হাওলাদারের ছেলে মেহেদী মানজুর (২৬)।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. নাসিম হোসেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানা গেছে, নগরের ঝাউতলা দ্বিতীয় গলি এলাকার বাসিন্দা শুভংকর বিশ্বাস গত ৮ মার্চ রাত ৯টার দিকে কালীস চন্দ্র রোডের কাঞ্চন পার্কে হাঁটতে যান।
হাঁটা শেষে পার্কের গেটের সামনে কিছু লোকের জটলা দেখতে পান তিনি। সেই জটলা পার হয়ে পার্কের বাইরে বের হওয়ার সময় পকেটের মানিব্যাগ হারিয়ে ফেলেন।
পরে বুঝতে পারেন, কেউ তার পকেট থেকে মানিব্যাগটি নিয়ে গেছে। তবে জটলায় থাকা লোকজন যে যার মতো করে চলে যাওয়ায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি তিনি।
শুভংকর বিশ্বাস জানান, তার মানিব্যাগে জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র, পৃথক দুটি ব্যাংকের তিনটি ক্রেডিট কার্ড, একটি ডেবিট কার্ড, বিভিন্ন অফিসের কাগজপত্র এবং নগদ ৫০০ টাকা ছিল।
এদিকে চোরচক্রটি ৮ মার্চ রাত পৌনে ১২টা থেকে পরদিন ৯ মার্চ রাত ১২টার মধ্যে একটি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ১১ হাজার ৯৮৫ টাকা উত্তোলন করে।
এছাড়া বরিশালের দুটি শোরুম থেকে বড় অঙ্কের কেনাকাটা করে। এসব লেনদেনের একাধিক বার্তা (মেসেজ) ভুক্তভোগীর মোবাইলে যায়। পরে বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানায় জানিয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন শুভংকর বিশ্বাস।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে শপিংমল ও এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে এবং অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. নাসিম হোসেন জানান, শুভংকর বিশ্বাসের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


