
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর লাখ লাখ নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশেও এই রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক সংস্থা International Agency for Research on Cancer (আইএআরসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় সাড়ে ছয় হাজার নারী এ রোগে মারা যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কীভাবে হয় জরায়ুমুখ ক্যান্সার
জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রধান কারণ Human Papillomavirus (HPV) বা এইচপিভি ভাইরাস। সাধারণত যৌনসংসর্গের মাধ্যমে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। তবে ভাইরাস শরীরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার হয় না; ক্যান্সারে রূপ নিতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
এই রোগের একটি বড় সমস্যা হলো-প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো ব্যথা বা স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। শেষ পর্যায়ে গিয়ে রোগটি ধরা পড়ে, তখন চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়।
যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে
* কম বয়সে বিয়ে ও যৌনজীবন শুরু
* ঘন ঘন সন্তান ধারণ
* একাধিক যৌনসঙ্গী
* দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন
* অপুষ্টি ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির অভাব
* রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা
* যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়া
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
* যৌনমিলনের পর রক্তপাত
* অনিয়মিত মাসিক বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
* দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক সাদা স্রাব
* মেনোপজের পর রক্তপাত
* তলপেট, কোমর বা হাড়ে ব্যথা
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিরোধের উপায়
* কম বয়সে বিয়ে না দেওয়া
* পরিবার পরিকল্পনায় সচেতনতা
* ধূমপান পরিহার
* ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
* নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং)
* কিশোরীদের জন্য এইচপিভি টিকা গ্রহণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ুমুখ ক্যান্সার এমন একটি ক্যান্সার, যার প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে। যৌনজীবন শুরুর আগেই এই টিকা দেওয়া সবচেয়ে উপযোগী।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দেশে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।


