
ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আবারও বাংলাদেশ থেকে তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশের ইস্যু উত্থাপন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এ কারণে রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন আগের সরকারগুলো তাদের আমলে আসামে জনসংখ্যার গঠনে পরিবর্তন হতে দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি ‘খুব একটা ভালো নয়।’ গত কয়েক বছরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার যোগসূত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আসামের মুসলিম জনসংখ্যার একটি ‘বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী।’ তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মুসলিম জনসংখ্যার কেবল অল্প একটি অংশ দেশের স্বার্থে চিন্তা করে। তাঁর অভিযোগ, বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করেছে।
এই অভিবাসনের জন্য তিনি কংগ্রেসকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, কংগ্রেস শাসনামলে রাজ্যের সীমান্ত ও জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত হলে এই অংশটি বাংলাদেশকে সমর্থন করতে পারে।
অবৈধ অভিবাসন আসাম ও পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি বলে পুনরায় উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর সরকার রাজ্যের পরিচয়, জমি ও সম্পদ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’ তিনি জানান, সরকার অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানসহ বিভিন্ন পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
এ ছাড়া, বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বছরের পর বছর সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনস (এনআরসি) হালনাগাদ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


