
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার নেপথ্যে বিএনপি ও ভারত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, বঙ্গভবন ও ইন্ডিয়ার সঙ্গে প্যাকেজ প্ল্যানে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর ইমেজ ধ্বংস করার জন্য সাইবার অ্যাটাক শুরু করেছে।’
আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলে ট্রাকস্ট্যান্ডে দলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় দলটির জেলা ও মহানগরের নেতাদের পাশাপাশি পাঁচটি আসনে জোট মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এ জনসভায় গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অপপ্রচার, হুমকি, সন্ত্রাস দিয়ে যখন আর পেরে উঠছে না, ওরা এখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব, সংগঠনের মর্যাদা, ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য সাইবার অ্যাটাক শুরু করেছে। প্রযুক্তি দিয়ে সাইবার অ্যাটাক করে আমাদের আমিরে জামায়াত যে কথা কোনোদিন বলেননি, বঙ্গভবনের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামারকে দিয়ে, ইন্ডিয়া অরিজিনেটেড ভাইরাস দিয়ে আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে সেইদিনই ছাত্রদলকে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘কালকে রাতে আমার টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। ৪০ মিনিটের মধ্যে আমরা প্রতিবাদ করেছি।’
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। এই প্রোগ্রামারের সঙ্গে ছাত্রদল ও ভারতের কী সম্পর্ক, তা জাতির সামনে প্রকাশ করার দাবিও জানান পরওয়ার।
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি আওয়ামী লীগের ‘দশ টাকা সের চাল’ কর্মসূচির সমতুল্য।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন বলে, আমরা সব করে দেবো। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড—ভুয়া সব। ভুয়ার তো একটা লিমিট আছে। মিথ্যা ও গুজব বানাইতে গেলে মিথ্যার মধ্যেও ভুল হয়। মানুষ দেশে ১৮ কোটি, আর তারা বলে ৫০ কোটি কার্ড দেবো। মানুষ জানছে, আপনারাই একবার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন, বেকার ভাতা দেবেন, কৃষককে বিনামূল্যে সার দেবেন। অনেক ওয়াদা করেছিলেন। সব ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। এটা হলো শেখ হাসিনার দশ টাকা সের চাউলের মতো। বাংলাদেশের মানুষ এসব পছন্দ করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি, লাঙল, নৌকা, ধানের শীষ; সবার পরীক্ষা তো হয়ে গেছে। দাঁড়িপাল্লার পরীক্ষা হতে এখনো বাকি। ১১ দলের অনেক প্রতীক আছে। আমরা সবাই নতুন। আমরা কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় যাইনি। কিন্তু অঙ্গীকার করেছি সততা, দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও মানবিক বাংলাদেশ আমরা বিনির্মাণ করবো।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রচারে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘ইসলামিক চেতনা, জুলাই আন্দোলনের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—তিনটি চেতনাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বো। বিএনপির বন্ধুরা গ্রামে গ্রামে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার, ১১ দলের মার্কার পক্ষে মানুষের স্রোত দেখে মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে। চোখ রাঙিয়ে, হুমকি দিয়ে, মিথ্যা বলে জোর করে ভোট নেওয়ার বাংলাদেশ আর নেই।’
‘মাথা খারাপ হয়েছে তো, তাই হামলা-হুমকি শুরু হয়েছে। তাহলে ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের মানুষকে তোমরা বিবস্ত্র করে ফেলবে। তোমাদের হাতে আমাদের মা-বোনের জীবন-ইজ্জত নিরাপদ হতে পারে না,’ যোগ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘মানুষ এখন পরিবর্তন দেখতে চায়। আমরাও সেই পরিবর্তন চাই। এই পরিবর্তন মানে হলো—স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছেন তাদেরকে লালকার্ড দেখাতে হবে।’
বিগত সময়ে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তাদের ‘ফেলু পার্টি’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘যারা রাষ্ট্র শাসন করেছেন, প্রত্যেকে এসবের অন্তর্ভুক্ত। তারা সবাই পরীক্ষায় ফেল। ফেলু পার্টি দিয়ে দেশ শাসন চলবে না।’
ক্ষমতায় গেলে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেন এই জামায়াত নেতা।


