
বাংলাদেশের সাবেক বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল হুদাসহ আটজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দেন।
অন্য যাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তাঁরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য নাজমুল হাই, আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, মো. আবু বক্কার সিকদার, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, আক্তার হোসেন ভূঁইয়া ও এম মাহবুবুল আলম।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নিষেধাজ্ঞা দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক জনসংযোগ তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, যাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে তাঁরা পরস্পর যোগসাজশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও নিজেরা লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশে অপরাধমূলক অসদাচরণ এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে তাঁদের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নামে একটি প্লট বরাদ্দ হয়। উক্ত প্লট আবার বাতিল করা হয়। তাঁর নামে বরাদ্দ বাতিল করা প্লটের বরাদ্দ আবার দেওয়া হয়। কিন্তু প্লট বরাদ্দ নেওয়া-সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করে সুদ বাবদ ধার্য করা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ২৪০ টাকা মওকুফ করা হয়। সুদ মওকুফ করা সরকারের ক্ষতি সাধন করা। আর এই ক্ষতিসাধন করার জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা করেছে দুদক।
মামলা তদন্তকালে দুদক বিশ্বস্ত সূত্র জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। তাঁরা দেশত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে গেলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। এ জন্য তাঁদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খাইরুল হক কারাগারে রয়েছেন।


