
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, ‘বেহেস্তের টিকিট বিক্রির নামে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ধর্মকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা চালাচ্ছে।’ তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই গোষ্ঠী জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করছে। শনিবার (২৪জানুয়ারি) দিনভর খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের মনোনিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে কদম আর মোড, নিক্সন মার্কেট, কেডি ঘোষ রোড, কালী বাড়ী ও বড় বাজার এলাকায় নির্বাচনী গন সংযোগ ও প্রচারপত্র বিলিকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম তুহিন বলেন, স্বাধীনতার চেতনার বিরোধী শক্তি কখনোই জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তাই তারা এখন ভোটের রাজনীতিকে কলুষিত করতে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। ‘বেহেস্তের টিকিট’ দেখিয়ে মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে সরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, যা গণতন্ত্র ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষার পরিপন্থী। তিনি বলেন, ইসলাম কখনোই প্রতারণা, মিথ্যাচার কিংবা মানুষের বিবেক কেনার শিক্ষা দেয় না। অথচ একটি গোষ্ঠী কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোটকে আখেরাতের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে জনগণকে ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে। এরা স্বাধীনতা সংগ্রামেও ছিল না, গণতন্ত্রের আন্দোলনেও নেই—কেবল ক্ষমতার লোভেই মাঠে নেমেছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাননি। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা বেহেস্তের দালালি করে, তারা আসলে দুনিয়াতেই মানুষকে ঠকায়।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন। এ নির্বাচনে গণতন্ত্র, স্বাধীনতার চেতনা ও মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন জড়িত। ভোটারদের সজাগ থাকতে হবে, যেন কোনো বিভ্রান্তি বা ধর্মীয় আবেগ দিয়ে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়। তিনি বলেন, ভোট বিক্রি মানে নিজের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। তাই সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিক দলের আহবায়ক মোঃ মজিবর রহমান, সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি. ২০নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি রিপন, জামাল খান, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, মোঃ রিপন, তমাল খান, মোসলেম, কাউছার মোল্লা, নুর আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


