
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদের সনদ ঘোষণা ও স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানটি গ্রিনিচ মান সময় সকাল সাড়ে ৯টা বা বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়ার কথা।
এই বোর্ড অব পিস গঠনের উদ্যোগ প্রথমে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন তদারকির একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। পরে এটি বিস্তৃত হয়ে একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাত-মধ্যস্থতা সংস্থায় রূপ নেয়, যেখানে যোগ দিতে ডজনখানেক দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার বলেন, ইতিমধ্যে ২০ টির বেশি দেশ এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের কাছে ২০ টির বেশি, সম্ভবত ২৫ জন বিশ্বনেতা রয়েছেন, যারা ইতিমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন।’
যেসব দেশ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, কাতার ও মিসর। পাশাপাশি ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক ও হাঙ্গেরিও আছে এই তালিকায়। অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—মরক্কো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কসোভো, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও বেলারুশ।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস বোর্ড অব পিস গঠনের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে গাজা প্রশাসনের জন্য একটি ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা অনুমোদন করা হয়, যা উপত্যকাটির অন্তর্বর্তী শাসন পরিচালনার জন্য নির্ধারিত চারটি সংস্থার একটি। এই বোর্ড অব পিস গঠনের কাছাকাছি সময়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। এই যুদ্ধবিরতির ফলে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যামূলক যুদ্ধ আপাতত বন্ধ হয়েছে। তবে এখনো ইসরায়েলি বাহিনী হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আজীবন বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এবং এর দায়িত্ব শুধু গাজাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা জানান, আমন্ত্রিত দেশগুলোকে বলা হয়েছে—বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে হলে প্রথম বছরের মধ্যেই কমপক্ষে ১ বিলিয়ন ডলার অবদান রাখতে হবে।
খসড়া সনদ অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রগুলো শুরুতে তিন বছরের জন্য সদস্যপদ পাবে। যারা এই আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে, তাদের জন্য স্থায়ী আসন সংরক্ষিত থাকবে। ফ্রান্স, নরওয়ে ও সুইডেন প্রকাশ্যে এই উদ্যোগে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এতে জাতিসংঘের ভূমিকা ক্ষুণ্ন হতে পারে। ইউরোপের অন্য দেশগুলো—জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ইতালি এখনো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছে।
বোর্ড অব পিসের তদারকির দায়িত্বে থাকা নির্বাহী কমিটিতে থাকার কথা রয়েছে—সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, ধনকুবের মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান অজয় বাঙ্গা এবং মার্কিন রাজনৈতিক উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।


