
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘চালিয়ে যাও’। একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, ‘সাহায্য যাচ্ছে’।
ইরানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত। তবে এই ‘সাহায্য’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি। ট্রাম্প বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক স্থগিত রাখবেন।
বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদক পল অ্যাডামস লিখেছেন, সামাজিক মাধ্যমে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট পরিস্থিতির তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি তাঁর পোস্টে বিক্ষোভকারীদের উৎসাহ দেওয়া, প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিতে বলা এবং হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম লিখে রাখার মতো কথা বলেছেন। এমন বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন- শিগগিরই ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটতে যাচ্ছে।
ইরানে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসে বৈঠক হওয়ার কথা আছে। এতে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
পল অ্যাডামস লিখেছেন, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির পন্থা বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সেটিকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
ইরানে আপাতত বিক্ষোভের তীব্রতা কমেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের দমনে চালানো অভিযানের চিত্র সামনে আসছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ২ হাজার হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) হিসাবও প্রায় একই রকম।
টানা কয়েক দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সহিংস সংঘর্ষে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া ইরানি বিক্ষোভকারী এরফান সুলতানির পরিবার জানিয়েছে, বুধবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। স্বজনদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দমন ও ভয় ছড়িয়ে দিতে সরকার সব কৌশলই ব্যবহার করছে।


