হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো মার্কিন সামরিক জাহাজ পার হওয়ার খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। সেই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো যুদ্ধজাহাজ এই জলপথ ব্যবহারের চেষ্টা করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান উভয় পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি হুমকিতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর। কারণ এই প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানিই তাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণ করলে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। শনিবার মাত্র তিনটি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পেরেছে, যার দুটি ছিল চীনের এবং একটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী।
প্রতিটি জাহাজের ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল হলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা নগণ্য। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করত। রোববার আরও দুটি জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ফিরে গেছে। ঠিক কী কারণে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হলো তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, এটি স্পষ্ট যে প্রণালীটি এখন আর নিরাপদ নয়। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার অপেক্ষায় বসে নেই কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো। কাতার গতকালই সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব আজ জানিয়েছে যে তারা তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই পাইপলাইনটি এখন পুরোপুরি সচল।এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মানিফা তেলক্ষেত্রটিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সংকটকালীন এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে এখন বিকল্প পথ ও নতুন কৌশলই উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা


