
চিন্তা-চেতনায় দিয়া মির্জা যে অন্য আট-দশ মানুষের মতো, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন এই বলিউড অভিনেত্রী। জানালেন, সবকিছুর আগে তিনি একজন মা, এই পরিচয় এখন তাঁর কাছে বড়। এ কারণে অন্য মায়েদের মতো সন্তানের প্রতিটি বিষয়ে থাকে তাঁর নজরদারি। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, তার দুই সন্তান সামাইরা এবং আভিয়ান এখন থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন হয়ে উঠেছে।
দিয়ার কথায়, তিনি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে বরাবর সোচ্চার। তারপরও নিজের দুই ছেলেমেয়েকে পরিবেশ সুরক্ষায় তেমন কিছু শেখানো হয়ে ওঠেনি। তাঁর ৫ বছরের ছেলেও একবার ব্যবহার করা প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার গুরুত্ব বোঝে। এতে প্রমাণ হয়, এই জেন-জি প্রজন্ম একই সঙ্গে ‘আবেগপ্রবণ’ ও ‘বুদ্ধিমান’।
কিন্তু এ কথা বলেও দিয়া জানান, সন্তানদের নিয়ে আত্মসন্তুষ্টি নয়; বরং দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তিনি। এ নিয়ে এইসময় অনলাইনসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে খোলাখুলি কথাও বলেছেন।
এ অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘এই জেন-জি প্রজন্ম যেমন আবেগপ্রবণ তেমনি অনুভূতির প্রতিও সজাগ। যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, প্রতিটি বিষয়ের সমাধান খুঁজে বের করতে তারা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। কিন্তু এমন জেন-জিও আছে, যারা শর্টকাট চায়। সবকিছু দ্রুত সম্পন্ন করতে চায়। তাদের কোনো কিছুর জন্যই ধৈর্য নেই। মূলত সেসব জেন-জিদের কথা ভেবেই দুশ্চিন্তায় আছি। ভয় এটা ভেবে, আমার সন্তানরাও যে সেই শর্ট পদ্ধতিকে বেছে নেওয়া দিকে না যায়। যেমন এআই-এর কথা বলি, যা নিয়ে আজকাল অনেক আলোচনা শোনা যায়। এআই যদি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা হয়, তা হলে সামাজিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু আমরা দেখছি যে, কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এআই প্রতিটি উত্তর, প্রতিটি বিবরণ, এক সেকেন্ডের মধ্যে তৈরি করে। তা হলে, তারা কীভাবে নিজস্ব মস্তিষ্ক ব্যবহার করে কিছু শিখবে? তারা নিজেরাই চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে– যা সত্যি দুশ্চিন্তার বিষয়।’


