
মাদক ও মানবপাচার বন্ধে শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মাদক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং দেশের যুবসমাজকে মারাত্মকভাবে বিপথগামী করছে। এ কারণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফ এজাহার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তারেক রহমান ঢাকা ও টাঙ্গাইল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মানবপাচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের কয়েকটি অঞ্চল, বিশেষ করে উখিয়া ও কক্সবাজার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব এলাকায় মানবপাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হয় এমন পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার মানবপাচার বন্ধে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া উদ্বেগজনক হারে বিস্তার লাভ করছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বের করা যায়।
তিনি বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে বিএনপি। কৃষকই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তাই কৃষক কার্ড বিতরণের মাধ্যমে তাদের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সবশেষে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য সরবরাহ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। তিনি জেটিঘাট, গুদাম, ভবনসহ বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং নাফ নদীর জলসীমা পরিদর্শন করেন।
টেকনাফ স্থলবন্দরের সংশ্লিষ্টরা জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীকে এসব বিষয় অবহিত করা হয়।


