রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি গ্রামের বিএনপির কর্মী শাহাদ আলীর নামে রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই শাহাদ আলী গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দাওকান্দি সরকারি কলেজে গিয়ে নারী শিক্ষিকা (প্রদর্শক) আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতাপেটা করেন। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি তাফসির মাহফিলের আমন্ত্রণ ও কলেজ মাঠ অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের অনুমতি নিতে কয়েকজন বিএনপির নেতা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যান। তারা মাহফিলের জন্য চাঁদাও চান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আফাজ উদ্দিন, এজদার আলী এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগা। জানা গেছে, স্থানীয় একটি হিমাগার থেকে ঋণ নেয় শাহাদ আলী। তবে তা পরিশোধ না করার অভিযোগে শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। সেই মামলায় শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
এ বিষয়ে শাহাদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অন্য গণমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, আগের দেনা-পাওনার হিসাব করতে গিয়েই তিনি কলেজে যান এবং সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে মারধর করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে প্রতিক্রিয়া দেখান।দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার বলেন, গত বৃহস্পতিবার দাউদকান্দি কলেজে যে ঘটনা ঘটেছে। তা নিয়ে কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। এছাড়া আগের একটি মামলায় শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তা কার্যকরের জন্য পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, শিক্ষিকা ও বিএনপি কর্মীর পাল্টাপাল্টি মারামরির ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পরদিন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এনিয়ে আকবর আলীসহ কয়েকজন শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজশাহী নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের সংবাদ সম্মেলন করেন।


