
পাকিস্তানের লাহোরে আজারবাইজানের ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে মাদকজাতীয় পদার্থ খাইয়ে তিন ব্যক্তি ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ওই তরুণী জানান, তিনি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর বাসিন্দা এবং ব্যবসায়িক কাজে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) লাহোরের রাইউইন্ডের ডিফেন্স হাউজিং অথরিটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পাকিস্তানি নারী তাঁকে একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানান। সেখানে যাওয়ার পর আরও তিন পুরুষ তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। খাবার শেষে ওই তিন ব্যক্তি গাড়িতে করে সবাইকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। তবে অভিযোগ, পরে তাঁরা তরুণী ও ওই দুই নারীকে একটি অজ্ঞাত ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
অভিযোগে বলা হয়, ফ্ল্যাটে যাওয়ার পর তরুণীকে মাদকজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। এরপর তিন ব্যক্তি তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন। রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত সেখানে থাকার পর তাঁকে গাজি ইন্টারচেঞ্জের কাছে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ফয়সাল কামরান জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার সময় ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।
তরুণী পুলিশকে জানান, রেস্তোরাঁয় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো দুই নারীর সঙ্গে সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তির বন্ধুত্ব রয়েছে। তিনি রেস্তোরাঁয় পৌঁছানোর আগেই ওই তিনজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের চেহারা দেখলে তিনি শনাক্ত করতে পারবেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, সন্দেহভাজন তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তাঁদের নাম অস্থায়ী জাতীয় শনাক্তকরণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ৩০ দিনের জন্য তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
এদিকে লাহোরে যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে শহরটিতে যৌন নিপীড়নের ১ হাজার ১৮০টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত জুলাইয়ে একই এলাকায় নেদারল্যান্ডস ও ভেনেজুয়েলার দুই নারীকে অপহরণ করে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশ দুই ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের উদ্ধার করে এবং পরে চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।
ওই দুই নারী পাকিস্তানে গিয়েছিলেন মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত মুহাম্মদ রাজা দারের আমন্ত্রণে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ২৯ জুন দার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের অপহরণ করে হুমকি দেন, অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন এবং যৌন নির্যাতন চালান।


