
খুলনার ব্যস্ত নৌপথ রূপসা ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়, ট্রলারে বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ভাঙা গ্যাংওয়ে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাটে বাড়তি টাকা দিয়েও নিরাপদ পারাপারের নিশ্চয়তা মিলছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
স্থানীয়দের দাবি, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পরিচালনায় থাকা ঘাটটি পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়ন্ত্রণে যায়। এরপর যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে আগের তুলনায় বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। ট্রলারে জনপ্রতি ভাড়া ৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টার পর ভাড়া দ্বিগুণ এবং সাড়ে ১১টার পর ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
রূপসার নৈহাটি গ্রামের রাজমিস্ত্রি মো. মনিরুল হাসান সুমন জানান, আগে সাইকেলের টোল ২ টাকা দিলেও এখন দিতে হয় ৫ টাকা। নৌকা ভাড়াসহ প্রতিদিন তাঁর প্রায় ৩০ টাকা খরচ হয়। কয়েক দিন আগে ভাঙা গ্যাংওয়েতে পড়ে আহত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে কলেজশিক্ষার্থী কৌশিক হালদারের অভিযোগ, একটি মুরগি পারাপারের জন্য তাঁর কাছে ১০ টাকা চাওয়া হয়েছিল। নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিমেষের কাছ থেকে একটি টেবিল ফ্যানের জন্য ৫০ টাকা এবং ব্যবসায়ী তানভীরের কাছ থেকে ছোট শোকেস পারাপারে ২০ টাকা নেওয়া হয় বলে তাঁরা জানান।
ঘাটের টোল তালিকায় মালামাল ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের নির্ধারিত হার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে আদায় করা অর্থের সঙ্গে তার অমিল রয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। খালি কাপড়ের ব্যাগের জন্য ২০ টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদারের কর্মচারী কুদ্দুস কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানান প্রতিবেদক।
ঘাটের অনিয়ম বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল ফেরি চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
খুলনা নদীবন্দরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পরিচালক রহমতুল্লাহ শিগগিরই প্রতিবেদন দেবেন। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘাটটি পরিচালিত হচ্ছে। ঘাটে প্রবেশ ফি ২ টাকা নেওয়া হয় এবং নদী পারাপারের ভাড়া মাঝিরা আদায় করেন। ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে আদালত অবমাননার মামলা হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ আইন উপদেষ্টার মতামতের ভিত্তিতে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে বলেও জানান তিনি।
যাত্রীদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ, নির্ধারিত টোলের তালিকা প্রকাশ, ভাঙা গ্যাংওয়ে মেরামত এবং ট্রলারে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।


