
মাওলানা মশিউর রহমান: রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এই বরকতময় মাসের শেষ দশকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল হলো ইতিকাফ। দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকেই ইতিকাফ বলা হয়।
মানুষের দৈনন্দিন জীবন নানা ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও কর্মজীবনের নানা চিন্তা-ভাবনা মানুষের মনকে সবসময় ব্যস্ত রাখে। ফলে একান্তভাবে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ইতিকাফ সেই সুযোগ সৃষ্টি করে, যেখানে একজন মুসলমান নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করতে পারেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।” (সূরা বাকারা: ১২৫)
হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর ইতিকাফ করতে না পারায় পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন (সুনানে আবু দাউদ: ২৪৬৩)।
ইসলামী শরীয়তে ইতিকাফ তিন প্রকার— সুন্নত, নফল ও ওয়াজিব। রমজানের শেষ দশ দিনের ইতিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদা হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া বছরের অন্য সময় ইতিকাফ করলে তা নফল হিসেবে গণ্য হয় এবং মান্নতের মাধ্যমে ইতিকাফ করলে তা ওয়াজিব হয়ে যায়।
ইতিকাফের মাধ্যমে একজন মুসলমান পবিত্র পরিবেশে অবস্থান করে বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার ও নফল ইবাদতে সময় ব্যয় করতে পারেন। এতে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি লাইলাতুল কদর লাভের সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে।
সব মিলিয়ে ইতিকাফ হলো মুসলমানদের জন্য এক অনন্য আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ। এই ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ পায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত ইবাদত পালনের তাওফিক দান করুন এবং আমাদের আমলগুলো কবুল করুন। আমিন।


