
যুক্তরাজ্যে বিদেশিদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন এই নিয়মে যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের একটি অংশও প্রভাবিত হতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কেয়ারকর্মীরা আগের মতো পাঁচ বছর পরই স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ পাবেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অভিবাসননীতির পরিবর্তনের ঘোষণা দেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। ২০২৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন নিয়ম কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ (আইএলআর) নামে পরিচিত। এই অনুমতি পেলে বিদেশিরা দেশটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান।
নতুন নিয়মে অধিকাংশ বিদেশি কর্মীকে আইএলআরের জন্য আবেদনের আগে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে বছরে ৫০ হাজার ২৭১ পাউন্ডের বেশি আয় করা ব্যক্তিরা পাঁচ বছর এবং এক লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারীরা তিন বছর পর আবেদনের সুযোগ পাবেন। চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষকদের মতো নির্দিষ্ট পেশার কর্মীদের জন্যও পাঁচ বছর অপেক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশিদের ওপর কী প্রভাব পড়বে
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও কেয়ারকর্মীদের যাওয়ার ভূমিকা ছিল।
এ কারণে দেশটিতে কর্মভিসায় থাকা বাংলাদেশিদের একটি অংশ নতুন নিয়মের আওতায় পড়তে পারেন। তবে কারও স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময়সীমা নির্ভর করবে তাঁর ভিসার ধরন, পেশা, আয় ও অন্যান্য যোগ্যতার ওপর।
কেয়ারকর্মীদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার অপেক্ষার সময় ১৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছিল সরকার। তবে সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে অভিবাসননীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ভিসা ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া এবং বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয়সহ নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী কেয়ারকর্মীরা পাঁচ বছর পরই আবেদনের সুযোগ পাবেন।
যাঁরা এসব শর্ত পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের আরও পাঁচ বছরের কেয়ার ভিসার জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কেয়ারকর্মী হিসেবে যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহীদের জন্য পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৫ সালের ২২ জুলাই থেকে বিদেশ থেকে নতুন কেয়ারকর্মী ও সিনিয়র কেয়ারকর্মী নিয়োগের ভিসাপথ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কারণে তাঁদের জন্য নতুন করে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও অপেক্ষার সময় বাড়ছে
নতুন নীতিতে শরণার্থীদের স্থায়ী বসবাসের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকার অনুমোদিত নিরাপদ ও বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসা শরণার্থীরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন।
অন্য পথে আসা শরণার্থীদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় সাধারণত ২০ বছর হতে পারে। আর ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে কাজ বা পড়াশোনার মাধ্যমে এই সময় কমানোর সুযোগ থাকবে।
স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে অপরাধের রেকর্ড, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, সরকারের কাছে বকেয়া ঋণ এবং অন্তত তিন বছরের ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স অবদানের বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হবে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, নতুন নিয়ম যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে অবস্থান করছেন কিন্তু এখনো স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাননি—এমন বিদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে আইএলআর পেয়েছেন, তাঁদের ওপর নতুন নিয়মের কোনো প্রভাব পড়বে না।
সূত্র: আল জাজিরা


