
মাওলানা মশিউর রহমান খুলনাভী: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। রমজান মাসকে তিনটি বৈশিষ্ট্য দ্বারা বিভক্ত করা হয়েছে। আজ থেকে শুরু হলো হাদিসে বর্ণিত রমজানের দ্বিতীয় দশক—মাগফিরাত বা ক্ষমার দশক। মাগফিরাতের এই সময়টি সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জন্য মহান আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ। তাই এ সময় প্রত্যেক রোজাদারেরই নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত জরুরি।
ইসলামে মাগফিরাতের সময় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এই মাসে একজন রোজাদার সারা বছরের নেকি ও পুণ্যের ঘাটতি পূরণের জন্য সাধনা ও ইবাদতে মনোনিবেশ করেন। মাগফিরাতের এই ১০ দিনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
মাগফিরাত শব্দের অর্থ ক্ষমা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অসংখ্য গুণাবলির মধ্যে অন্যতম হলো তিনি ক্ষমাশীল। এ জন্য আল্লাহ তাআলার একটি গুণবাচক নাম ‘আল-গাফুর’, যার অর্থ ক্ষমাশীল। বান্দা যেন তার সারা বছরের গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে, সে জন্য আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের দ্বিতীয় দশককে মাগফিরাতের সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
তাই এই সময় আমাদের প্রধান করণীয় হলো আন্তরিকভাবে তাওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলেছেন,
‘সকল মানুষই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো যারা তাওবাকারী।’ (বায়হাকি)
মহান আল্লাহ বলেন,
‘তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কাউকে শরিক না করো, তাহলে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৪০)
এই মাসে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি মাগফিরাত কামনা করা, গরিব-দুঃখীদের দান-সদকা করা, সব ধরনের পাপ ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা, ইবাদত-বন্দেগি বৃদ্ধি করা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া-ইস্তেগফারে মনোনিবেশ করা—এসব আমল আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। মহান আল্লাহ এসব আমল অবশ্যই কবুল করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এই মাসে চারটি কাজ বেশি বেশি করা উচিত—
প্রথমত, কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা;
দ্বিতীয়ত, অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার করা;
তৃতীয়ত, জান্নাত লাভের আশা করা;
চতুর্থত, জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা।
কিন্তু যে ব্যক্তি রমজান মাস এবং মাগফিরাতের এই মূল্যবান সময় পেয়েও তাওবা ও ইস্তেগফার করে না, তার মতো হতভাগা আর কেউ নেই। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তার মতো হতভাগা আর কেউ নেই।’
তাই রমজানের দ্বিতীয় দশক—মাগফিরাতের এই সময়টিতে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আন্তরিকভাবে তাওবা-ইস্তেগফার করা। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ কথা প্রমাণিত যে, ইস্তেগফার আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। যারা বেশি বেশি ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তাআলা তাদের ক্ষমা করে দেবেন।


