
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক এবং খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নিবাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের নেতাকর্মীর কাছে মা-বোন নিরাপদ নয়; তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জান ও মালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনের প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন হলেও কমিশন ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কমিশন ও প্রশাসন যদি কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করে তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করতে বাধ্য হবে। এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের অনতিবিলিম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক মহিলা নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
মহারাজপুর ইউনিয়ন আমীর মাস্টার সাইফুল্লাহ হায়দারের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা আছাফুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা শূরা সদস্য মাওলানা আবু তাহের, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি শেখ আবুল কালাম আজাদ, কয়রা উপজেলা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজাউদ্দীন, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. সাহবুদ্দিন, উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি জিএম মোনায়েম হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা জেলা দক্ষিণের সাবেক সেক্রেটারি মো. হারুন-অর-রশিদ প্রমুখ।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশ ও জাতির প্রকৃত মুক্তির জন্য সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ন্যায়, ইনসাফ ও সুশাসনের পক্ষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সকল দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না থাকায় সারাদেশে একটি দলের নেতাকর্মীরা জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। প্রশাসনের নিরব ভূমিকা জনমনে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে জনগণ রাজপথে নেমে আসতে পারে বলেও তারা হুশিয়ারি করেন। তিনি দেশবাসীর মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা তুলে ধরেন এবং আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে গণসমর্থন কামনা করেন।


