
চীনাবাদাম আমাদের দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। অনেকেই এটিকে সাধারণ সস্তা নাশতা মনে করলেও পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি বেশ উপকারী একটি খাদ্য। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা বাদামে প্রায় ৫৬৭ ক্যালরি শক্তি থাকে। এতে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদাম ভাজার আগে ধুয়ে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে বাদাম শুধু পরিষ্কারই হয় না, বরং ভাজার সময় আরও ভালো মানের মুচমুচে স্বাদ পাওয়া যায়।
কেন বাদাম ধুয়ে ভাজা উচিত
বাদামের গায়ে অনেক সময় ধুলোবালি বা ময়লা লেগে থাকে। ধুয়ে নিলে সেগুলো দূর হয়ে বাদাম খাওয়ার জন্য নিরাপদ হয়। পাশাপাশি ধোয়া বাদামে সামান্য আর্দ্রতা থাকার কারণে ভাজার সময় ভেতর ও বাইরের অংশ সমানভাবে সেদ্ধ ও ভাজা হয়।
ফলে বাদাম সুন্দর সোনালি-বাদামি রং ধারণ করে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মুচমুচে থাকে। এছাড়া বাদামের প্রাকৃতিক সুঘ্রাণও আরও বেশি বের হয়।
নিখুঁতভাবে বাদাম ভাজার সহজ কৌশল
ধোয়া ও শুকানো:
কাঁচা বাদাম ঠান্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না। এরপর পানি ঝরিয়ে ফ্যানের নিচে বা রোদে কিছুক্ষণ শুকিয়ে নিতে হবে।
লবণ ব্যবহার:
ভাজার আগে হালকা লবণ পানিতে অল্প সময় বাদাম ভিজিয়ে রাখলে ভেতরে লবণের স্বাদ ঢুকে যায় এবং খোসা ছাড়ানো সহজ হয়।
চুলায় ভাজার পদ্ধতি:
প্রথমে মাঝারি আঁচে বাদাম ভাজতে শুরু করুন। পরে আঁচ কমিয়ে ধীরে ধীরে নাড়তে থাকুন। বাদাম থেকে ‘ফট ফট’ শব্দ শোনা গেলে বুঝবেন ভাজা হয়ে গেছে।
ওভেন বা এয়ার ফ্রায়ারে:
১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় ১০ মিনিট ভাজার পর তাপমাত্রা কমিয়ে ৯০–১০০ ডিগ্রিতে আরও ৩০–৪৫ মিনিট রাখলে বাদাম আরও ক্রিস্পি হয়।
বাদামের উপকারিতা
বাদাম প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। বিশেষ করে বাদামের পাতলা লাল খোসায় বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তাই খোসাসহ বাদাম খাওয়া বেশি উপকারী।
এটি কুকিজ, কেক, সালাদ, নুডলস কিংবা পিনাট বাটার তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়।
কখন বাদাম এড়িয়ে চলবেন
কিছু মানুষের বাদামে অ্যালার্জি থাকতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে। এছাড়া স্যাঁতসেঁতে জায়গায় রাখা বাদামে ছত্রাক জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই সব সময় ভালো মানের শুকনো বাদাম বেছে নেওয়া উচিত।
সূত্র: Healthline, wikiHow


