
বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দি প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল তার দুই ছেলে, সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদী ও বিএইচ হারুণ এবং ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে ৫টি পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে বলে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন।
আসামিরা হলেন, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমেটেডের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে ব্যাংকটির পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল, পরিচালক ও সাবেক এমপি আবদুস সালাম মুর্শেদী, আওয়ামী লগের সাবেক এমপি বজলুল হক হারুন, ব্যাংকটির পরিচালক শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ, শায়লা শেলী খান, চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত, এএইচএম ফেরদৌস, নব গোপাল বণিক, ব্যাংকটির এমডি এম রিয়াজুল করিম, ডিএমডি ও ক্রয় কমিটির প্রধান সৈয়দ নওশের আলী, এসভিপি মোশফেক আলম খান এবং মাইন্ডটি লিমিটেডের এমডি ইকবাল আল মাহমুদ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মাত্র ৫টি কার্যাদেশের বিপরীতে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত এইচবিএম ইকবালের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিজ্ঞাপন প্রচারের অজুহাতে মাইন্ডটি/মাইন্ডট্রি লিমিটেডের নামে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা অগ্রিম জমা করা হয়। এই অগ্রিম জমা প্রকৃতপক্ষে আত্মসাতের কৌশল।
দুদকের অনুসন্ধান বলছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা সমন্বয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত অগ্রিম হিসেবে আত্মসাত করা ৯৬ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা এখনও অসমন্বিত রয়েছে। আর ২০২০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
দুদক সূত্র আরও জানা যায়, প্রতিটি টিভি চ্যানেলে ১০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি থাকলেও বাস্তবে প্রচার করা হয় মাত্র ৫০ মিনিট। সবমিলিয়ে মোট ২৪০০ মিনিট টিভিসি প্রচারের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রচার হয়েছে মাত্র ১২০০ মিনিট অর্থাৎ, কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ কাজ দেখিয়ে বাস্তবে অর্ধেক কাজ করেই পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের বিল, ভাউচার ও পে-অর্ডার পর্যালোচনায় দুদক দেখতে পায় ৫টি কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডটি লিমিটেডকে প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।


