
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে লিটন দাস-শামীম হোসেন পাটোয়ারীদের মতামত শুনতে আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বসেছিলেন আসিফ নজরুল ও বিসিবির কর্মকর্তারা। সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটা জানতেই অপেক্ষায় ছিলেন সাংবাদিক থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। সাংবাদিকদের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তারা ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটার কোনো নড়চড় হয়নি। তিনি বলেন ‘আজ আমাদের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ভাই, আমাদের বোর্ডের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ফাহিম ভাই ও আমাদের সচিবকে নিয়ে বসেছিলাম। বাংলাদেশ দলে লিটন, মিরাজ, নাজমুল আছে, সোহান আছে। সবাই ভক্ত। স্বভাবতই আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। আমাদের ক্রিকেটাররা কষ্ট করে অর্জন করেছেন। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।’
৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এক ক্রিকেটারকেই যখন নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তখন বাংলাদেশ দলের বিশাল বহরকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে—এই প্রশ্ন উঠেছে তখনই। সেই প্রসঙ্গে আজও কথা বলেছেন আসিফ নজরুল। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন,‘আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে। যেখানে আমাদের দেশের একজন সেরা ক্রিকেটারকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) উগ্রবাদীদের চাপে বের করে দিয়েছে। এক মোস্তাফিজকেই যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে, তারা আমাদের বাকি ক্রিকেটার, সাংবাদিক, সমর্থকদের কীভাবে দেশের নিরাপত্তাকর্মীরা নিরাপত্তা দেবে?’
হয় ভারতে খেলতে হবে, না হলে বিশ্বকাপ বর্জন করতে হবে—গতকাল আইসিসির ভার্চুয়াল সভায় বাংলাদেশকে নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। সভা শেষে বিসিবিকে একদিনের আলটিমেটাম দিয়েছে। ভোট হয়েছে ১২ পূর্ণ সদস্য ও ২ সহযোগী দেশের মধ্যে। বাংলাদেশ ১২-২ ব্যবধানে হেরেছে বলে বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র এমনটাই জানিয়েছে। বাংলাদেশ পেয়েছে শুধু পিসিবির ভোট। আইসিসির সভা শেষে গত রাতেই বিসিবির নীতিনির্ধারকেরা ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বসেছিলেন। আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে সুবিচার করেনি বলে দাবি করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।


