
বাগেরহাটের ফকিরহাটে একটি বসতবাড়িতে আগুন লেগে ঘর ও ভেতরে থাকা মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলী মুসা শেখ (৪২) নামে এক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মৌভোগ গ্রামের লিয়াকত শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী মুসা একই গ্রামের মৃত আজিত শেখের ছেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, দুপুরে লিয়াকত শেখের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই ঘর ও ভেতরে থাকা আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।
আগুন নেভাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন প্রতিবেশী আলী মুসা শেখ। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুকান্ত কুন্ডু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘরে জমি বিক্রির নগদ টাকাসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে। এতে ছয় লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।
পল্লী বিদ্যুৎ ফকিরহাট জোনের ডিজিএম আনন্দ কুমার কুন্ডু বলেন, বসতবাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়। তবে তাঁদের কাছে খবর পৌঁছানোর আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহাজান মিয়া বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান তাঁরা। তবে রাস্তা সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। পরে বালতি দিয়ে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, মৌভোগ গ্রামে বসতবাড়ির আগুন নেভাতে গিয়ে এক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


