
নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনার মূল আসামি নুরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত পারেননি। নরসিংদী থেকে গাজীপুর হয়ে দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরা পুলিশকে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নরসিংদীর ওই ঘটনায় দায়ের মামলায় নয়জন আসামির মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে মামলার পরপরই প্রথম দিন পুলিশ ঘটনার বিষয়ে সালিসকারী এক বিএনপি নেতা, তাঁর ছেলেসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় নুরাসহ দুজনকে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নুরাসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত আগামীকাল রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
নরসিংদী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমরা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আসামিদের আদালতে হাজির করি। আদালত রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।’
এর আগে নরসিংদী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ শুক্রবার রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে নুরাকে গ্রেপ্তার করে। একই সময় মামলার আরেক আসামি হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরা পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করলে তিনি ভারতে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য তিনি নরসিংদী থেকে গাজীপুর হয়ে দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালাতে রওনা হন। পথে পুলিশ তাঁকে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার সামনে থেকে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে গত বুধবার রাতে কোনো একসময় হত্যা করেন নুরা ও তাঁর সহযোগীরা। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে একটি সরিষাখেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মাধবদী থানায় মামলা করেছেন।


