
চলতি ধান কাঁটা মৌসুমে ১ জন কৃষাণের মজুরি ৩ বার খাওয়া-সহ কমপক্ষে ১ হাজার টাকা। কিন্তু ১ মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯’শ থেকে ১ হাজার টাকায়। তাছাড়া গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কাঁটা ধান পানিতে ডুবে বড় ক্ষতি হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সমগ্র উপজেলায় লক্ষমাত্রার অধিক ২২ হাজার ১’শ ৩২ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯’শ ২৪ মেট্রিক টন উচ্চ ফলনশীল বোরো ধান আবাদ হয়েছে।
ডুমুরিয়া অঞ্চলের ধান চাষিরা অনেক কষ্ট-ধারদেনা করে ধান কেটেই সাধারণত মাঠ থেকে ছোট ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করে জোনের(কৃষাণ) দাম পরিশোধ করেন। কিন্তু চলতি বছর চাষাবাদের খরচের তুলনায় ধানের দান অনেক কম। কৃষি অফিস বলছে, এখনও ৪০ শতাংশ জমির ধান ক্ষেতেই রয়েছে। ঠিক সেই সময় কয়েকদিনের মৌসুমি বৃষ্টিতে অনেকের কাঁটা ধান ক্ষেতেই তলিয়ে যাওয়ায় বেশ-বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে। তাই ভাল ফলন হওয়ার পরও ডুমুরিয়ার ধানচাষিরা চরম হতাশ। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুলতানা খানম বলেন, ধান কাটা মৌসুম শেষ হওয়ার মুখে আজ ৩ মে থেকে সরকারি গুদামে ধান কেনা শুরু হচ্ছে।
সেখানে উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকাভূক্ত চাষিরাই সুকনা-চিটা মুক্ত ধান ১৪’শ ৪০ টাকা মন দরে বিক্রি করতে পারবেন। ধানচাষিরা বলছেন ভিন্ন কথা, প্রকৃত চাষিরা সাধারণত মাঠ থেকেই ধান বিক্রি করেন বলে গোডাউনের সুফল পান না। আর ঠিক সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির ধান ব্যবসায়ী বিপুল পরিমান মজুদ গড়ে তোলে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এসে ধান কিনে ট্রাক ভরে অন্য অঞ্চলেও নিয়ে চলে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কাটাখালী বিলের ধানচাষি মোশাররফ হোসেন কচি বলেন, গোডাউনে আমরা ধান নিয়ে গিলিই বলবে, সুকনা কম, চিটা আছে, হবে না। কিন্তু বাজারের ব্যাপারীরা গিলি, সব ঠিক হয়ে যায়। একজন চাষির ভাগ্য এমন, সারা মৌসুম জমি-পানি-সার-বীজ-কিষাণ খরচ করে ১ মন ধানে পাচ্ছে ৯ ’শ থেকে ১ হাজার টাকা। আর ১০ দিনে ব্যবসায়ী মাঠ থেকে কিনে গোডাউন ম্যানেজ করে মনে ৩-৪’শ টাকা লাভ করবে। মাধবকাঠি বিলের ধান চাষি হারুণ শেখ বলেন, অনেক দামের কিষেণ কিনে ধান কাটাইলাম। কিন্ত গত ২ দিনে বর্ষায় আমার কাটা ধান তলায়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়ছে। এ বছর খরচের টাকাও ওঠবে না।
উখড়া বিলের কৃষক মুজিবর রহমান মোল্লা বলেন, ১ মন ধানে ১ জন কিষেণের দামও হচ্ছে না। তাছাড়া বিছালীর(খড়) দামও অনেক কম। এমন অবস্থায় ধানচাষ করা খুবই মুশকিল।


