
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা অগ্রগতি অর্জন করছে। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু সতর্কভাবে সামলাতে হবে। তিনি সতর্ক করে দেন, তাইওয়ান প্রশ্নে মতপার্থক্য দুই দেশের সম্পর্ককে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারে। এমনকি সংঘাতও সৃষ্টি করতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, তাইওয়ান নিয়ে চীনা নেতার মন্তব্য কঠোর হলেও একেবারে নজিরবিহীন নয়। তবে জাঁকজমকপূর্ণ এই বৈঠকের সামগ্রিক পরিবেশ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক। ট্রাম্প একে ‘সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক’ বলেও উল্লেখ করেন।
দুই নেতা দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন। বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প সি চিন পিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনি একজন মহান নেতা। অনেকেই পছন্দ করেন না যে এটি আমি বলি। কিন্তু আমি তবু বলি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, এটি হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক।’
পরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবরণ অনুযায়ী সি বলেন, গত বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলের আলোচনা ‘সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফল’ দিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে গত অক্টোবর হওয়া ভঙ্গুর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহায়ক কাঠামো গড়ে তোলাই ছিল ওই আলোচনার লক্ষ্য।
সি চিন পিং তাইওয়ান প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। এই দ্বীপটিকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে, আর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। বেইজিংয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, সি ট্রাম্পকে বলেন, তাইওয়ানই দুই দেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এটি ভুলভাবে সামলানো হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি সামরিক সংঘাতও হতে পারে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ট্রিভিয়াম চায়নার ভূরাজনীতি বিশ্লেষক জো মাজুর বলেন, অতীতেও বেইজিং তাইওয়ান নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে, তবে সি চিন পিংয়ের এবারের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিচ্ছেন, যেন তারা কোনো ঝুঁকিপূর্ণ খেলা না খেলে।’
পরে টেম্পল অব হেভেনে ছবি তোলার সময় সাংবাদিকেরা তাইওয়ান নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেও ট্রাম্প কোনো উত্তর দেননি। ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত এই স্থানে একসময় চীনের সম্রাটরা ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনা করতেন। চীনের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, দুই নেতা বাণিজ্য ও কৃষিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপ পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেছেন।
ট্রাম্প ও সি এরপর আজ রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। শুক্রবার তাঁরা একসঙ্গে চা পান ও মধ্যাহ্নভোজ করবেন।
এদিকে মার্কিন থিংকট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী ওয়াইন বলেন, ট্রাম্পের আগের বেইজিং সফরের পর থেকে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে। তখন চীন ট্রাম্পকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে শত শত কোটি ডলারের পণ্য কিনেছিল। কিন্তু এবার সেটা হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম।
আলী ওয়াইনের মতে, এখন ট্রাম্প নিজেই চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তির অবস্থান অস্বীকার করছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় গত অক্টোবরে এপেক বৈঠকের ফাঁকে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতে ট্রাম্প আবারও ‘জি-টু’ শব্দটি ব্যবহার করেন, যা দুই সুপারপাওয়ারের যুগল আধিপত্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।


