ইসরাইল কর্তৃক গাজায় সাংবাদিক হত্যা এবং গণমাধ্যমে বর্বর হামলার প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জোরালো কণ্ঠে সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনের শুরুতেই বক্তারা গাজায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সংঘটিত বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এই ধরনের হামলা শুধু সাংবাদিক সমাজকে নয়, সমগ্র বিশ্বে মুক্ত গণমাধ্যম ও তথ্যাধিকারের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
মানববন্ধনে সাংবাদিক কৌশিক দে বলেন, “গাজার সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর আকর্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় শক্তভাবে অবস্থান নিতে হবে। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনে, গাজীপুর এবং অন্যান্য স্থানে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা চালানো হয়েছে। আমরা চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিক।”
আনিসুল হক কবির বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধুমাত্র তাদের জীবনকে বিপন্ন করছে না, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্যাধিকারের ওপরও হুমকি সৃষ্টি করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে, সাংবাদিকরা ন্যায্য কাজ করতে পারছে না। আমরা জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
কালের কণ্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক এইচএম আলাউদ্দিন বলেন, “গাজার হত্যাযজ্ঞ এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্যাতন প্রমাণ করছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে মুক্ত সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা চরম হুমকির মুখে পড়বে। আমাদের প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে, যাতে বিশ্ব সাংবাদিক সমাজ সচেতন হয়।”
খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে সতর্কবার্তা দেন, যাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব হয়। মানববন্ধন শেষে বক্তারা একত্রিতভাবে ঘোষণা দেন, সাংবাদিক হত্যার এই বর্বরতা ও গণমাধ্যমে হামলা বন্ধ না হলে মুক্ত সাংবাদিকতা, তথ্যের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি চরম হুমকির মুখে পড়বে।