
ফরিদপুরে গভীর রাতে মাদক মামলার আসামির স্ত্রীর ঘর থেকে মো. ইমরান হাসান (৩০) নামে পুলিশের এক কর্মকর্তাকে হাতেনাতে আটক করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে থানা-পুলিশে সোপর্দ করেন তাঁরা। পরে সালথা থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত এএসআই ইমরান হাসান রামকান্তপুর ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বলিভদ্রদিয়া এলাকার মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মাদক মামলার সুবাদে এএসআই ইমরান হাসান মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে একাধিকবার যাওয়া আসা করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে ইমরানের একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেহেদী হাসানের বসতঘরে ঢুকতে গেলে এলাকার লোকজনের হাতে ধরা পড়ে মারধরের শিকার হন ইমরান। পরবর্তীকালে সালথা থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে ইমরানের আটকের ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরানের গায়ে পুলিশের পোশাক নেই। প্যান্ট ও টি-শার্ট পরা। তাঁর মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা। মুখে রক্তমাখা।
এ বিষয়ে ইমরান হাসানের দাবি, তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সাদাপোশাকে রাত ৩টার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।
ঘটনাটি নিয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গেলে মাদক কারবারি মেহেদীর পরিবার তাঁকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। সেই সঙ্গে কেন ওই এএসআই রাতের আঁধারে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে গিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’


