
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এদেশে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে| সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব ˆতরি এবং জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে এদেশে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ করতে চাচ্ছে| এজন্য জামায়াতের জনশক্তিদের জনগণের সামনে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা, ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা, ইসলামী বিচার ব্যবস্থা ও ইসলামী মূল্যবোধকে ব্যপকভাবে তুলে ধরতে হবে| আর সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে গণভিত্তিকে মজবুত করতে হবে| তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা, আত্মশুদ্ধি এবং সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে|
তিনি আরও বলেন, আদর্শিক দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব|
শুক্রবার (১০ জুলাই) দিনব্যাপী খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রুকন প্রার্থী শিক্ষাশিবির ২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন|
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা মুহা. এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি ও সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল| অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন খুলনা জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম ও মাওলানা গোলাম সরোয়ার, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাউসুল আযম হাদি, মাওলানা মনিরুজ্জামান, স ম এনামুল হক, মুহা. আশরাফুল আলম প্রমুখ|
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ আরও বলেন, একজন রুকন শুধু সংগঠনের সদস্য নন, বরং সমাজ পরিবর্তনের একজন দায়িত্বশীল কর্মী| ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনে আদর্শিক দৃঢ়তা, আত্মশুদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত ভূমিকা রাখতে হবে| তিনি বলেন, মোয়ামেলাতের ক্ষেত্র শুধু লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়| হক দুই ধরনের| এক. আল্লাহর হক, দুই. বান্দার হক| এই দুটি মোয়ামেলাতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত| বিশ্বাস এবং শৃঙ্খলার মাধ্যম মানবজাতির উন্নয়ন করতে হবে|
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ইবাদত দিয়ে আল্লাহর হক আদায় হবে না| খেলাফতের দায়িত্ব পালন অনেক কঠিন| নামাজ, রোজা, যাকাত আদায়ের মাধ্যমে খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিতে হবে| হয় গাজী না হয় শহিদ, এই ধরনের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে|
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আখেরাতের সফলতায় মুমিন জীবনের প্রকৃত সফলতা| এজন্য একজন ঈমানদার হিসেবে দুনিয়ার সুযোগ সুবিধা আমাদের জন্য অগ্রগণ্য না| আমাদের মূল টার্গেট হবে আখেরাতে চূড়ান্ত সফলতা| তাই জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের আখেরাতকে প্রাধান্য দিয়ে জীবন পরিচালনা করতে হবে| সকল কাজে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং উলিল আমরের নিকট আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদান করতে হবে| আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে ময়দানে সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করতে হবে| বর্তমান সময়ের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদেরকে কুরআনের রঙে রঙিন করতে হবে| জামায়াতের রুকনদের কুরআনে বর্নিত গুণাবলী সমুহ নিজেদের চরিত্রে ফুটিয়ে তুলে সমাজের মানুষের মাঝে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে|
সভাপতির বক্তৃতায় মাওলানা এমরান হুসাইন বলেন, আন্দোলনের রুকন প্রার্থীদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য হচ্ছে, সংগঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা| নিজেদেরকে একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো| আল্লাহর দেওয়া বিধানের সাথে আমাদের সম্পর্ক যতো মজবুত হবে ইকামতে দ্বীন বিজয়ের কাজ ততো সহজ হয়ে উঠবে| সংগঠনকে শক্তিশালী ও বিজয়ী আন্দোলনে পরিণত করতে নিজেদের গণমুখি চরিত্রকে উদ্ভাসিত করতে হবে| খুলনা জেলাকে ইসলামী আন্দোলনের ঘাটিতে পরিণত করতে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সংগঠনকে সম্প্রসারণ ও মজবুত করতে হবে| নিজেদের পরিশুদ্ধ করে জান-মালের কুরবানীর মাধ্যমে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাতে হবে|


