
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার খালিশপুরের হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম।
একই সময় ঢাকার বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনলাইনে সরাসরি প্রচার করা হয়। দেশের ১৪টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
জানা যায়, হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত-এই তিন শ্রেণির নারীদের ৪৯ ধরনের তথ্য-উপাত্ত পিএম স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। সারা দেশে প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগী ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারের ২৩ দিনের মধ্যেই নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। আগামী জুনের বাজেটের পর এই কর্মসূচিকে পূর্ণাঙ্গ আকারে সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিল্প-কলকারখানা পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে খুলনাকে আধুনিক শিল্পনগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম ও পুরোহিতদের সহায়তার কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হোসেন জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ উপকারভোগী ও স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, কেসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে মোট ৫ হাজার ২৭৫ জন উপকারভোগীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে তাদের মধ্যে ৪ হাজার ১৫৮ জনের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বাকি কার্ড বিতরণ করা হবে।


