
দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে খুলনার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই একটি খবরে যেন খুলনার রাজনীতির আকাশে হঠাৎ করেই ঝড় উঠেছে। নগরজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আবেগ, উত্তেজনা ও প্রত্যাশার জোয়ার। বহুদিনের বঞ্চনা, অপেক্ষা আর আন্দোলনের ক্লান্তি যেন এক মুহূর্তে মিলিয়ে যাচ্ছে-কারণ, প্রিয় নেতা আসছেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী ০২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য বিশাল নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর খুলনার মাটিতে এটি হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি-যা নেতাকর্মীদের কাছে শুধুই একটি সমাবেশ নয়, বরং আবেগের বিস্ফোরণ, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে এই জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে খুলনা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চূড়ান্ত হয় এই সিদ্ধান্ত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলি আসগর লবি সহ মহানগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর, জেলা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এই জনসমাবেশকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আনুমানিক ৮ লাখ মানুষের উপস্থিতি টার্গেট নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মহানগর ও জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়াসহ ৬টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আসবে বিশাল মঞ্চ ও আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। মাঠের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ও প্রচারণা কার্যক্রম ঘিরে দলীয় কার্যালয়ে চলছে একের পর এক প্রস্তুতি সভা। ইতমধ্যে নগরী ও জেলায় প্রচার মাইকিং শুরু করেছে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, তারেক রহমানের খুলনা আগমন কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়—এটি আমাদের জন্য সাহস, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ফিরে পাওয়ার মুহূর্ত। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য এই সফর হবে নতুন প্রেরণার উৎস। ২২ বছর পর প্রিয় নেতাকে নিজের শহরে দেখতে পাওয়া আমাদের কাছে আবেগের, গর্বের এবং সম্মানের। তিনি আরও বলেন, খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমানের এই সফর বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই জনসমাবেশ হবে মাইলফলক। এদিকে, জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের খুলনা সফর শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়—এটি খুলনার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৪ সালে সর্বশেষ খুলনায় এসেছিলেন তারেক রহমান।


