
খুলনা-২ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আর নতুন প্রশাসককে বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নগর ভবন কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে অসুস্থ নজরুল ইসলাম মঞ্জু ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। সুস্থ হওয়ার পর খুলনায় ফিরে দায়িত্ব বুঝে নেবেন বলে জানান কেসিসির নতুন প্রশাসক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একটু সুস্থ হওয়ার পর খুলনায় এসে দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
মঞ্জু বলেন, ‘খুলনা সিটি করপোরেশনে অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চাই।’
এর আগে গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। ওই চিঠিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মাহাবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫(ক)-এর উপধারা (১)-এর অনুবৃত্তিক্রমে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৪’-এর ধারা ২৫(ক)-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন।
সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে খুলনা-২ আসন থেকে নির্বাচন করেন। মাত্র পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন তিনি।
জানতে চাইলে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দলীয় পদ ছিল না, কিন্তু তিনি রাজপথেই ছিলেন। এমনকি দলের কর্মসূচিতে গিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে। তারপরও তিনি মাঠ ছাড়েননি। আবারও প্রমাণ হলো রাজপথ কখনো বেইমানি করে না। এ কারণেই চেয়ারম্যান তাঁকে মূল্যায়ন করেছেন।
নতুন প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব আ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার জানান, নগরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে খুলনায় উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান মিলবে। অবশ্যই নাগরিক সেবার মান বাড়াতে হবে বলে তিনি মনে করেন।


