
‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ৮ম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ‘আইসিসিইএসডি ২০২৬’।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. বদরুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. এ. বি. এম. বদরুজ্জামান বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী উদ্ভাবন অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত হতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আধুনিক গবেষণার ফল বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনফারেন্সের চেয়ার এবং কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী হামিদুল বারী।
তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদরা অংশগ্রহণ করছেন। কনফারেন্সে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে স্থাপনা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় অঞ্চলের অবকাঠামোগত সুরক্ষা, বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা, স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা ও নিরাপদ পানি সরবরাহ, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, যানজট নিরসন এবং আধুনিক সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।
আয়োজক সূত্র জানায়, কনফারেন্সের তিন দিনে মোট ৪২টি টেকনিক্যাল সেশনে ৩৩৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।
এবারের কনফারেন্সে স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করছে পোলস্ এন্ড কনক্রিট লিমিটেড (পিসিএল), কদমতলী স্টিল মিলস প্রাইভেট লিমিটেড (কেএসএমএল), গ্লোরি পোলস্ লিমিটেড (জিপিএল) এবং সেভেন রিংস সিমেন্ট।
উদ্বোধনী অধিবেশনে কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কনফারেন্সটির সমাপ্তি ঘটবে এবং সেরা গবেষণাপত্র উপস্থাপনকারী গবেষকদের পুরস্কৃত করা হবে।


