
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত কিশোর আরাফাত খানের কবর পাহারা দিচ্ছে তার পরিবার। কঙ্কাল চুরির আশঙ্কায় দাফনের পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা নিজ উদ্যোগে এবং ভাড়া করা লোক দিয়ে কবরটি পাহারা দিয়ে আসছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনও ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে মরদেহটি নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে কবরে রাখা যায়।
নিহত আরাফাত (১৭) দিঘীরপাড় ইউনিয়নের হাইয়ারপাড় এলাকার জসিম খানের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বজ্রসহ বৃষ্টির সময় মাঠে গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে পাশের কামারখাড়া ইউনিয়নের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণা প্রচলিত আছে যে বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির দেহের কিছু অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয় এবং তা উচ্চমূল্যে বিক্রি করা যায়। এ কারণে একটি চক্র এসব মরদেহ চুরির চেষ্টা করে থাকে। এই আশঙ্কা থেকেই পরিবারের সদস্যরা কবর পাহারায় নামেন।
আরাফাতের বাবা জসিম খান বলেন, “ছেলেকে হারানোর কষ্টের মধ্যে আবার লাশ চুরির ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। তাই দাফনের পর থেকে প্রায় প্রতিরাতেই কবর পাহারা দিয়েছি।”
মা সোনিয়া বেগম জানান, স্বামী অসুস্থ হওয়ায় সবসময় পাহারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই ধার করে লোক ভাড়া করে পাহারার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার কবরস্থান পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, কবর নিরাপদ রাখতে আপাতত এক সপ্তাহ গ্রাম পুলিশের পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কবরস্থানটিকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


