
ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ না করার অনুরোধ জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে চীন জানিয়েছে, তারা তেহরানকে কোনো অস্ত্র দিচ্ছে না।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চিঠিতে ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং জবাবে সি চিন পিং লিখেছেন যে, চীন এমন কিছু করছে না।
সাক্ষাৎকারটি আগের দিন রেকর্ড করা হলেও চিঠিপত্র বিনিময়ের সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে সেই দেশের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প জানান, আগামী মাসে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি বা ভেনেজুয়েলার কারণে তেলের বাজারে যে পরিবর্তন এসেছে, তা এই বৈঠকে প্রভাব ফেলবে না।
এদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছেন, যা নিয়ে চীন সন্তুষ্ট। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জলপথটি বন্ধ ঘোষণা করার পর বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করত, এখন সেখানে খুবই সীমিত আকারে চলাচল হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও জানান, তেহরানের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে আলোচনার সম্ভাবনার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগরসহ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।


