
মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের দুই ইতালিপ্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে বড় ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন ছোট ভাই। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে ইতালি পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ইতালির সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়) নয়ন হুমায়ুনের বাড়ির নিচে সাইকেলের ব্যাটারি চার্জ দিতে যান। সে সময় আগে থেকেই সেখানে ছুরি নিয়ে অপেক্ষায় থাকা হুমায়ুন পেছন থেকে প্রথমে পিঠে এবং পরে মাথায় আঘাত করে নয়নকে হত্যা করেন। হত্যার পরপরই হুমায়ুন ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের নয়নের মরদেহ দেখান এবং খুনের কথা স্বীকার করেন। ঘটনার পর ইতালি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
নিহতের বোন দিলারা আক্তার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, হুমায়ুন ১৩ লাখ টাকা খরচ করে নয়নকে ইতালি নিয়েছিল, অথচ নয়ন তাকে ২০ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে। তারপরও আরও ৮ লাখ চাইছিল। নয়ন সেটাও দিতে রাজি ছিল। শুধু দ্বিতীয় বিয়ে ও পারিবারিক বিরোধের জেরে সে আমার ভাইকে হত্যা করল। আমরা হুমায়ুনের ফাঁসি চাই।
হুমায়ুনের মা বিউটি বেগম বলেন, নয়ন হুমায়ুনকে যা দিয়েছে, তা দেওয়া টাকার চেয়ে বেশি। তারপরও হুমায়ুন আরও টাকা চাইছিল। দ্বিতীয় বিয়ের কারণে আমরা ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিলে সে ক্ষেপে গিয়ে ছুরি দিয়ে নয়নকে কুপিয়ে মেরে ফেলে।
টংগিবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে হুমায়ুন নিজেই থানায় ফোন করে নয়নের বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকা পাওনার অভিযোগ জানান এবং ব্যবস্থা নিতে বলেন। থানা পুলিশ লিখিত অভিযোগ ছাড়া পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে হুমায়ুন তার প্রথম স্ত্রীর মাধ্যমে পরিবারের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করান।
টংগিবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই ইতালিতে খুন হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।


