
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া ৭৩ জন জেলেকে ফেরত এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের টেকনাফের জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জেলেদের ফেরত আনতে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল আজ দুপুরে একই ঘাট থেকে নাফ নদীর শূন্যরেখার উদ্দেশে রওনা দেয়। নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মি তাদের হস্তান্তর করে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে জেলেদের দেশে এনে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের আলোচনার ফলেই জেলেদের ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। আরাকান আর্মির দাবি, জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে এখনও আটক থাকা অন্যান্য জেলেদের ফেরাতে বিজিবির পক্ষ থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ফেরত আসা জেলে নূরুল আলম বলেন, ‘ছয় মাস পর নিজ দেশে ফিরতে পেরে খুব খুশি লাগছে। মিয়ানমারে এখনও শতাধিক জেলে রয়েছে। মাছ শিকার করে ফেরার পথে নাইক্ষ্যংদিয়া ও বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে আমাদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। আমাদের মারধর করা হয়েছে, অনেক সময় না খাইয়ে রাখা হয়েছে। আমার মতো অন্যদেরও নির্যাতন করা হয়েছে।’
বিভিন্ন সময়ে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকা থেকে ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া অন্তত ২০০ জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে এই ৭৩ জনকে ফেরত আনা হলো। বাকিদের ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


