সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা , ,
মোটরযান থেকে মহাকাশ প্রযুক্তি, জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন তারেক রহমান | চ্যানেল খুলনা

মোটরযান থেকে মহাকাশ প্রযুক্তি, জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ করতে জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাতগুলো হলো মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার (জেট্রো) হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরিতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনা করতে অনুরোধ জানাচ্ছেন তিনি। উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বাংলাদেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম।

তিনি জানান, সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।

আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন।

ইপিএতে নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ

তারেক রহমান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের এটিই প্রথম চুক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, গড়ে ২৭ বছর বয়সী উদ্যমী তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের বড় সম্পদ। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটি হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোটরযান ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান

পাঁচ অগ্রাধিকার খাতের প্রথমটি হিসেবে মোটরযান উৎপাদনের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি মাসের শুরুতে টয়োটা বাংলাদেশে যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে কারখানাটিতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

জ্বালানি খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনার আওতায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

এ খাতে জাপানের জেরা (JERA)-এর সঙ্গে বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

প্রযুক্তি, মহাকাশ ও রেল যোগাযোগে সহযোগিতা

প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রিক উদ্ভাবনমুখী প্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মহাকাশ প্রযুক্তিতেও দুই দেশের সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের মহাকাশবিষয়ক সক্ষমতা বাড়াতে মহাকাশবিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরেকটি অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে উড়ালপথে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা বিশ্লেষণ, রুটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি ও বিনিয়োগ সহায়তা চান তিনি।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ফসল, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদিত হয়। এসব পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সুমিতোমো করপোরেশন জাপানি মানদণ্ড অনুসরণ করে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তুলছে।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং শুল্ক ছাড় ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কথা সরকার শুনেছে এবং সমস্যাগুলোর সমাধান করে আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দুটো নিশ্চিত করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব।

জাপানি ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও জাপানের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য জাপানে যান। পরে দেশে ফিরে তাঁরা অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগান।

বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষা শেখানোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি লাখ লাখ তরুণকে জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীরা দুই দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলার সময় জাপান পাশে ছিল। এখন বাংলাদেশের শিল্পকারখানা গড়ে তোলা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সরকার।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বে রূপান্তর করে জনগণের জন্য পারস্পরিক সুযোগ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অর্থনৈতিক ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা

বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জেট্রো এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা।

এ সময় কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় এবং বিনিয়োগ ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশে বিনিয়োগ সহজ করতে সরকারের সংস্কার ও নতুন উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের ঢাকা শাখার মহাব্যবস্থাপক ও কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো ‘টুগেদার ফর আ ব্রাইটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন। ওয়াইকেকে করপোরেশনের গ্লোবাল সেলস হেডকোয়ার্টার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেইসুকে আরাতানি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাত নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

সূত্র : বাসস

https://www.channelkhulna.tv/wp-content/uploads/2021/09/add-space-ck.gif

প্রধানমন্ত্রী কর্নার আরও সংবাদ

মোটরযান থেকে মহাকাশ প্রযুক্তি, জাপানি বিনিয়োগ চাইলেন তারেক রহমান

তারো আসোর নেতৃত্বে জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে মারুবেনি চেয়ারম্যানকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বৃহস্পতিবার খুলনা-বাগেরহাট সফরে আসছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বর্জ্য থেকে তেল উৎপাদনে গবেষকদের পাশে থাকার আশ্বাস তারেক রহমানের

একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.com, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।