
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজকে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বলেছেন, হামলার সময় তিনি একদিকে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়ছিলেন, অন্যদিকে শতাধিক যাত্রীর জীবন রক্ষার দায়িত্বও অনুভব করছিলেন।
শুক্রবার আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভিডিও কলে নিজের অভিজ্ঞতা জানান মাচ্ছার।
তিনি জানান, হামলার সময় গুরুতর আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। তখন তিনি বুঝতে পারেন, উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নামছে। উঠে দাঁড়াতে না পারলে যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে—এই উপলব্ধি থেকেই আহত অবস্থায় তিনি আবার ককপিটে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি ঘটে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে। অভিযোগ রয়েছে, উড়োজাহাজের ওমানি সহকারী পাইলট মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিমানটি মাত্র এক মিনিটে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থাতেও মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। পরে কয়েকজন যাত্রী ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর বিকল্প এক ক্রু উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
১৭ বছরের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মাচ্ছার বলেন, কঠিন মুহূর্তে সাহস ধরে রাখতে তিনি হিন্দু ধর্মীয় প্রার্থনা ‘হনুমান চালিশা’ পাঠ করছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘ভগবান হনুমান আমাকে সাহস দিয়েছেন।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, তার পদক্ষেপ বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে এবং বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছে।
এদিকে হামলার উদ্দেশ্য ও হামলাকারীর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে হামলাকারীর ‘ইসলামি উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত’ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।


