
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কেবল জেল খাটার অভিজ্ঞতা নেওয়ার কৌতূহল থেকেই কয়েকজন কিশোর মিলে এই হত্যার পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ এপ্রিল নিখোঁজ হয় ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন। পাঁচদিন পর ফতুল্লা রেললাইনের পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজের দিন সকালে অভিযুক্তরা শিশুটিকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, অভিযুক্তদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত এবং আগে থেকেই তারা কাউকে হত্যা করে জেল জীবনের অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা না থাকলেও সুযোগ পেয়ে নিরপরাধ হোসাইনকে টার্গেট করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে তাদের মধ্যে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বরিশালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অন্যদের আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এখনো একজন পলাতক রয়েছে। অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।


