সব কিছু
facebook channelkhulna.tv
খুলনা শুক্রবার , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
জরুরি বিভাগ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের, বাইরে উত্তেজনা | চ্যানেল খুলনা

জরুরি বিভাগ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের, বাইরে উত্তেজনা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকসদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জোর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে জরুরি সেবা নিতে আসা রোগীরা বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগের ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে জরুরি বিভাগের ভেতরে চিকিৎসকরা গেট বন্ধ করে অবস্থান করছেন। আর অন্যদিকে ঢাবির শিক্ষার্থীরা বাইরে অবস্থান করছেন। তারা বাইরে থেকে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে কোনো রোগী প্রবেশ করতে পারছে না। জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা এ মুহূর্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই প্রবেশ করতে পারছেন না।

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা জেসমিন আক্তার ঢাকা পোস্টকে জানান, তিনি কয়েকদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। আজ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা আগে টিকিটও সংগ্রহ করেন। তবে টিকিট নেওয়ার পরপরই সেখানে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ভেতর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ঢাবি শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ ইমন অভিযোগ করে বলেন, একজন হলের ছোট ভাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলে তাকে তিনটি মেডিসিন লিখে দেয় দায়িত্বরত চিকিৎসক। তিনি মেডিকেলের আশেপাশের সবগুলো দোকানে খুঁজেও সে ওষুধ পাননি। তখন আবার ডাক্তারের কাছে ওষুধ পরিবর্তন করতে করে দিতে বললে সেই ডাক্তার তার ওপর আক্রমণ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও কয়েকজন এসে আক্রমণ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন বলেন, “আমার ভাই অপারেশন থিয়েটারে আছে। আমি ভেতরে যেতে চাই, কিন্তু আনসার সদস্যরা আমাকে ঢুকতে দিচ্ছেন না।” ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত জেনারেল সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি বাইরে থেকে ‘নেলবান’ নামের একটি ইনজেকশন কিনে আনার পরামর্শ দেন।

এটি হাসপাতালে ছিল না। শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা ইনজেকশনটি কিনতে বাইরে গেলে কোথাও তা খুঁজে পাননি। পরে তারা আবার হাসপাতালে ফিরে এসে চিকিৎসকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান যে, এই ইনজেকশন খুঁজে কোথাও পাওয়া যায়নি।আরও জানা যায়, এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতালের ভবনের নিচে জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ ‘কেচি গেট’ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে, হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। মাঝে কেচি গেট তালা মারা।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, যে ইনজেকশনটি প্রেসক্রাইব করা হয়েছে সেটি প্যাসিডিন জাতীয়। তার ধারণা, এ কারণেই হয়তো ওষুধ বিক্রেতারা সেটি দিতে চাননি, যদিও সাধারণত এই ধরনের ইনজেকশন বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি বিভাগের প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহমান জানান, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মারামারি পর রোগীরা হাসপাতালে ঢুকতে না পারায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। জরুরি বিভাগে প্রবেশের দুটি গেট বন্ধ রয়েছে। এক পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্য পাশে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অবস্থান নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, আজ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জরুরি বিভাগে নতুন করে রোগী নেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত রয়েছে। আপাতত জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা চলছে না।এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর আমাদের কাছে সংবাদ আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসকের কাটাকাটি হয়েছে। এই সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশের টিম গেছে। পরিস্থিতির স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।

https://channelkhulna.tv/

জাতীয় আরও সংবাদ

খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার নিলেন নাতনি জাইমা রহমান

রক্তাক্ত জুলাই: পুলিশের গুলিতে সন্তান হারা পুলিশ বাবার জবানবন্দি

আসিফ নজরুলের মনোনীত সরকারি আইনজীবীরা এখনো বহাল তবিয়তে

দুর্নীতির এক স্বর্গরাজ্য : প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জেলা ত্রাণ অফিস

তেজগাঁওয়ে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৫৯

টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান

চ্যানেল খুলনা মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন  
সম্পাদক: মো. হাসানুর রহমান তানজির
It’s An Sister Concern of Channel Khulna Media
© ২০১৮ - ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | চ্যানেল খুলনা.বাংলা, channelkhulna.com.bd, channelkhulna.bd
যোগাযোগঃ ৫ কেডিএ বানিজ্যিক এলাকা, আপার যশোর রোড, খুলনা।
প্রধান কার্যালয়ঃ ৫২/১, রোড- ২১৭, খালিশপুর, খুলনা।
ফোন- 09696-408030, 01704-408030, ই-মেইল: channelkhulnatv@gmail.com
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদফতরে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।