
বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের দক্ষতা অনুযায়ী চাকুরির ব্যবস্থা করতে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চাকুরি মেলা-২০২৬’। বিভিন্ন ট্রেড ও বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ৭০০ চাকুরি প্রত্যাশী যুবক-যুবতী এ মেলায় অংশ নেন। দেশের স্বনামধন্য ২৩টি প্রতিষ্ঠান যোগ্য প্রার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের লক্ষ্যে মেলায় অংশ নেয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ হোপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে ফিতা কেটে ও কবুতর উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, এশিয়ান টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও হোপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, খুলনা এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ক্লাস্টার অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লিটন মন্ডলের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিএসএসের পরিচালক (শিক্ষা) ডেভিড টমাস গোমেজ।
চাকুরি মেলার উদ্দেশ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-১ ও ২-এর ম্যানেজার সুরভী বিশ্বাস। ফ্রান্সিস সামুয়েল সোম ও পাপিয়া মন্ডল পিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মো. আবুল কালাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুরাইয়া সিদ্দিকা, বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক গোলাম সাকলাইন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক শাহজাদ কবীরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেসিসির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ইউথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আরবান লাইভলিহুডের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর-এক্সটার্নাল এনগেজমেন্ট মো. রুহুল আমিন সরকার, মহিলা বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারের খুলনা বিভাগীয় প্রধান শামীমা সুলতানা শিলু, এশিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড লাইভলিহুড ম্যানেজার মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাকুরি মেলার মতো উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। চাকুরি মেলা বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। দীর্ঘদিন ধরে চাকুরি প্রত্যাশী তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সাধারণত চাকুরি প্রত্যাশীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরির জন্য ছুটতে দেখা যায়। কিন্তু আজকের মেলায় চিত্রটি ভিন্ন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানই চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে এসে যোগ্য প্রার্থী খুঁজছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক উদ্যোগ।
এছাড়াও তিনি বলেন, নগরীতে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেখানে তারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য ‘সিটি ফুড’ কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও নির্দিষ্ট স্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মেলায় অংশ নেওয়া চাকুরি প্রত্যাশীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, জীবনবৃত্তান্ত জমা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবকদের দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


