দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রথম মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল

খুবি’র উত্তর-পশ্চিম পাশে ভূমি পুনর্বিন্যাস প্রকল্পের ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে | চ্যানেল খুলনা

খুলনা, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

 সর্বশেষ সংবাদ:

খুবি’র উত্তর-পশ্চিম পাশে ভূমি পুনর্বিন্যাস প্রকল্পের ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে

চ্যানেল খুলনা প্রকাশিত হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১:৩২ : পূর্বাহ্ণ

খুলনা অফিসঃখুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশে ১৭৩.৪৫ একর জমির মালিকদের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভূমি পুনর্বিন্যাস প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। সোমবার জমা দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। এদিকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ শুরু করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি। ফলে সরকারি সাহায্য ছাড়াই এখন আকর্ষণীয় ও পরিকল্পনা মাফিক গড়ে উঠবে ওই এলাকাটি।
কেডিএ’র ভাষ্য অনুসারে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশে বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন আনুমানিক ১৭৩.৪৫ একর জমি রয়েছে। উক্ত জমির উত্তর পাশে  কেডিএ পরিকল্পিতভাবে ময়ূরী আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে। পূর্বপাশে খুলনা সিটি কর্পোরেশন লিনিয়ার পার্ক তৈরি করেছে, দক্ষিণ পাশে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী মৎস্য খামার ও আবহাওয়া অফিস বিদ্যমান এবং পশ্চিম পাশে সিটি বাইপাস রাস্তা রয়েছে। চারিপাশে পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা এলাকার মধ্যখানের স্থানটি দীর্ঘদিন অপরিকল্পিতভাবে পড়ে থাকার কারণে উক্ত এলাকা সংলগ্ন সরকারি খালের জায়গা অবৈধভাবে দখলের পাশাপাশি চলাচলের রাস্তায় পরিণত হচ্ছে, অপ্রশস্ত রাস্তার পাশে স্থায়ী স্থাপনা ও জলাশয় ভরাট হয়ে বসতবাড়ি গড়ে উঠছে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে জায়গাটি দিন দিন বস্তিতে পরিণত হচ্ছে।
অন্যদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মৎস্য খামার, আবহাওয়া অফিস, ময়ূরী আবাসিক এলাকা ও লিনিয়ার পার্ক-এর কারণে জায়গাটিঅনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে জায়গাটির ভবিষ্যৎ গুরুত্ব বিবেচনায় ভূমি পুনর্বিন্যাস জরুরি। সঙ্গতকারনে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ওই এলাকার জমির মালিকদের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভূমি পুনর্বিন্যাস প্রনয়ন করে তা বাস্তবায়নের করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে খেলার মাঠ, শিশু পার্ক, হাসপাতাল, উন্মুক্ত জায়গা, সাঁতারের জন্য পুকুর, গাড়ি পার্কিং, বনায়ন, খাল উদ্ধার ও নেটওয়ার্কিং, ওয়াকওয়ে, ড্রেন ও ফুটপাথ, আবাসিক/অনাবাসিক প্লট, ফুড কোড, সুপার মার্কেট, মসজিদ, কবরস্থান, খুবি শিক্ষার্থী ডরমেটরী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানির পাম্প হাউজের জন্য জায়গা, ইজিবাইক ও রিকসা স্টান্ড, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, ক্লাব ও পাবলিক টয়লেট ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন উন্নয়নে ব্যয় হবে অন্তত একশ’ ৬০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, কেডিএ এতদিন জমি অধিগ্রহণ করে বিভিন্ন পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তুলেছে কিন্তু জমি অধিগ্রহণের ফলে জমির মালিকরা আর তাদের জমিতে থাকতে পারে না। ফলে একজন ব্যক্তি যে স্বপ্ন নিয়ে জমি কেনে তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয় না। তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য এবার জমির মালিকদের সাথে কেডিএ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভূমি পুনর্বিন্যাস প্রণয়ন করছে। এই পরিকল্পনাতে উক্ত এলাকার মধ্যে যে-সকল নাগরিক সুবিধা প্রদান করা হবে তার জন্য যে পরিমাণ জমি লাগবে তা সকল জমির মালিকদের মধ্যে আনুপাতিকহারে বন্টন হবে। এছাড়া ভূমি উন্নয়নের জন্য যে খরচ হবে তা প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্লট/ জমি সাধারণ জনগণের মাঝে বিক্রি করে জোগাড় করা হবে। এভাবে ভূমি উন্নয়ন করার অন্যতম সুবিধা হলো সকল জমির মালিকেরা প্লট পাবে, সরকারি সাহায্য ছাড়াই ভূমির উন্নয়ন হবে, এবং সর্বোপরি এলাকাটি পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠবে। তবে যাদের জমির পরিমাণ কম তাদের কয়েকজনকে মিলে একটা প্লট দেয়া হবে। জমি কম এমন কেউ যদি নিজে একটা প্লট নিতে/রাখতে চায় তাহলে অতিরিক্ত জমির জন্য কাঠা প্রতি প্রকৃত উন্নয়ন খরচ জমা সাপেক্ষে একটা প্লট নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনুরুপ ভাবে যদি কেউ তার জমি না রাখতে চায় তাহলে সরকারি মৌজা দরে তার জমির সমুদয় অর্থ পরিশোধ করা হবে। সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি আর কোন প্লট পাবে না।
কেডিএ’র সহকারী টাউন প্ল্যানার আবু সাঈদ বলেন, সংস্থার অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা এবং উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-পশ্চিম পাশের আনুমানিক ১৭৩.৪৫ একর জমিতে গৃহীত ভূমি পুনর্বিন্যাসটিও উক্ত পরিকল্পনারই অংশ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উক্ত এলাকাটি একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে, জমির মালিকরা পাবে একটি পরিকল্পিত এলাকা। এছাড়া জমির দাম বেড়ে যাবে বহুগুণে, নির্মাণ বহুতল ভবন। ফলে আনুপাতিকহারে জমি যে পরিমানে কমে যাবে, তা জমির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে উপশম হবে।
প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রেপোজল (ডিপিপি)  সোমবার মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। এরপর একনেক’র সভায় অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পুরাতন সংবাদ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
Copy link
Powered by Social Snap