
নারীদের ওপর হামলার ঘটনা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী আমীর ও খুলনা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বিএনপির কর্মীরা আমাদের নারী কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। যা বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দুঃখের বিষয়, বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূলের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এতে বোঝা যায় বিএনপি দলগতভাবে নারীদের অধিকার হরণ করার মিশনে নেমেছে। সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নতুবা নারী সমাজ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের নেতাকর্মীর কাছে মা-বোন নিরাপদ নয়; তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। খুলনা-৩ আসনের ভোটাররা এই হামলার জবাব দেবে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের পিপলস গোল চত্বরে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ সব কথা বলেন। নগরীর খালিশপুর থেকে গণমিছিল শুরু করে বিআডিসি রোড, দৌলতপুর রেললাইন, বিএল কলেজ রোড, খুলনা-যশোর মহাসড়ক হয়ে ফুলবাড়িগেটে গিয়ে শেষ হয়।
নির্বাচনী গণমিছিলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগরী যুববিভাগের সভাপতি মোকাররম আনসারী, ইসলামীর ছাত্রশিবিরের মহানগরী সেক্রেটারি রাকিব হাসান, মাওলানা শেখ মো. অলিউল্লাহ, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা আমীর মাওলানা মুশাররফ আনসারী, ব্যবসায়ী থানা আমীর সিদ্দিকুর রহমান, বি এল কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবির, ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মনসুর আলম চৌধুরী, আজিজুর রহমান স্বপন, মাওলানা মহিউদ্দিন, শ্রমিক নেতা এস এম মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবির নেতা হযরত আলী, যুব নেতা হামিদুল হক, হায়দার আলী নিরু. ডা. গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও কমিশন ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, যদি কমিশন ও প্রশাসন কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করে তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করতে বাধ্য হবে। নারীদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯ বছর বিদেশে পালিয়ে ছিল যারা, তারাই মুলত গুপ্ত । জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে ছিল না। বরং জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়েছে। এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাসহ অসংখ্যা নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। তিনি আর বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মীর জীবন ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পর যারা লন্ডন থেকে দেশে এসেছে তারাই আসল গুপ্ত। জামায়াতে ইসলামীকে সামনে আসতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা থেমে যাইনি। আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছি। এদেশের জনগণ দেখেছে কারা জনগণের পাশে ছিল আর কারা লন্ডনে পালিয়ে ছিল।


