
খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, কোন আন্দোলন-সংগ্রাম দিয়ে মহান মুক্তিসংগ্রামের ত্যাগকে ম্লান করা যাবে না। এই সংগ্রাম ছিল কোটি কোটি মানুষের সংক্রিয় অংশ গ্রহণ, ৩০ লাখ শহিদ, ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের ফসল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর আল-বদর, আল-সামস, রাজাকারদের কাছে শিশু-বৃদ্ধ কেউ নিরাপদ ছিল না। তারা গোটা দেশে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও সম্পদ ধ্বংস করেছে। এমন কোন জুলুম-নির্যাতন ও নৃশংসতা নেই যা এই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা করেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে আর্দশে উদ্ভুদ বর্তমান প্রজন্ম যেমন আজকের ‘নতুন মুক্তিযোদ্ধা’, তেমনি মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা বিরোধীরা এদেশের শত্রু। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো থেমে যায়নি। এদেশের ইতিহাস-ঐহিত্য ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ধ্বংস করছে। তারা এদেশের জাতীয় পতাকা-জাতীয় সংঙ্গীত পাল্টে ফেলার মতো দু:সাহসিক প্রস্তাবনা দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচন সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবধর্ণা অনুষ্ঠানে রণাঙ্গণের বীর সেনানিরা এসব কথা বলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন, একাত্তর, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোন আপোষ করা যাবে না। সাংবাদিকদের লিখনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)’র সদস্য দেবব্রত রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্র নাথের সেন। সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমান বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইমদাদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আলমগীর হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাসমত প্রমুখ।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য কৌশিক দে বাপী, টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটের সাবেক সভাপতি সুনীল দাস, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য এম এম লিয়াকাত হোসেন প্রমুখ।
পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয়। এর আগে প্রষ্যুতে সংগঠনের উদ্যোগে গল্লামারী স্বাধীনতা সৌধে বীর শহিদদের স্মৃতি প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্তমাল্য অর্পণ করা হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি কাজী শামীম আহমেদ, কোষাধক্ষ্য জাহিদুল ইসলাম,প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মিলন হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সাগর সরকার, ফটো জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, আলমগীর হান্নান, এম এম নূর হাসান জনি, আল মাহমুদ প্রিন্স, গাজী মনিরুজ্জামান, শামীম আশরাফ শেলী, মামুন খান, মেহেদী আহমেদ খান, রাজু সাহা, হেলাল মোল্লা, সোহেল রানা, তুফান গাইন, শহীদুল ইসলাম, রুহুল আমিন, শংকর কর্মকার প্রমুখ।


